চাকরির ইন্টারভিউর জন্যে ৫টি কমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কৌশল

চাকুরীর ইন্টারভিউ

চাকরির জন্য ইন্টারভিউ খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ইন্টারভিউর মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় চাকরিটি আপনি পাবেন কি-না। সেজন্য ইন্টারভিউ বোর্ডের করা প্রশ্নগুলোর যথাযথ ও কৌশলী উত্তর দেওয়া অতি জরুরি। এমন কিছু সাধারণ প্রশ্ন আছে, যা অধিকাংশ চাকুরীর ইন্টারভিউতে করা হয়। সেসব প্রশ্নের সমযোগী উত্তর দেয়ার পূর্বপ্রস্তুতি চাকরিদাতার কাছে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে আপনাকে নি:সন্দেহে। আসুন আমরা জেনে নিই তেমনি ৫টি প্রশ্ন।

চাকুরীর ইন্টারভিউ

আপনার সম্পর্কে বলুন
এই প্রশ্নটি চাকরিদাতা আপনার পরিচয়, আগে কী কাজ করেছেন ইত্যাদি জানার জন্যে করে থাকে। এই প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি প্রতিষ্ঠানের উপর কতটুকু নির্ভরযোগ্য তা বোঝার চেষ্টা করেন চাকরিদাতা। তাই এ প্রশ্নের উত্তর এমন ভাবে দিতে হবে যেন নিয়োগকর্তা বুঝতে পারেন আপনিই এই চাকুরীর জন্যে যোগ্য।যেমন আপনার পারিবারিক পরিচয়, পড়াশোনা, চাকরি সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন। আর সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন মিনিট কথা বলুন এ ব্যাপারে। কারণ এই সময়ের বেশি বলতে গেলে আপনি হয়তো অপ্রাসঙ্গিক কোন বিষয়ের অবতারণা করতে পারেন। তা আপনার জন্যে চাকুরী না পাওয়ার কারন হয়ে দাঁড়াবে।

চাকরিটির ক্ষেত্রে নিজেকে কেন যোগ্য মনে করছেন?
এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজাল্ট ইত্যাদি তুলে না ধরে আপনার ইতিবাচক গুন ও সংশ্লিষ্ট চাকরির সাথে সম্পর্কিত আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরুন।

নিজেকে কিভাবে বর্ণনা করবেন?
নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক বলুন-এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া যদি কঠিন মনে হয়, তাহলে চুপ থেকে কয়েক সেকেন্ড সময় নিন। তাহলেই হয়তো এ্রর
ঊওর পেতে পারেন।অবশ্য প্রশ্নটি আপনার নিজেকে মার্কেটিংয়ের একটি ভালো সুযোগ। আপনার ভালো কয়েকটি গুন উল্লেখ করুন। যা আপনার পূর্ব কাজ বা চাকুরি সম্পর্কে । এ প্রশ্নের মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিত্ব, মৌলিক গুণ ও দক্ষতার কথা জানতে চান প্রশ্নকর্তা।

আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কোনটি?
এটা একটা কঠিন প্রশ্ন।এই প্রশ্নের উওর দিতে কখনো ঘাবড়াবেন না। সুন্দর ভাবে আপনার জীবনের ইতিবাচক দুর্বলতা্র কথা বলুন।তবে ভূলেও এ প্রশ্নের ক্ষেত্রে ‘আমার কোনো দুর্বলতা নেই’ এমন কোন উত্তর কখনো দিবেন না। আপনার জীবনে খারাপ দিক যা সত্যে তাই বলার চেষ্টা করুন। এতে আপনি সত্যবাদী তা প্রমান পাবে। আর মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কোনো না কোনো দুর্বলতা আছে। সুতরাং এ প্রশ্নে খারাপ লাগার কিছু নেই এখানে। সততার সাথে আপনি উত্তর দিন। চাকরির সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়।এমন দুর্বলতার কথা বলুন ।
আপনি অবশ্য কৌশলী হয়ে ইতিবাচকও বানিয়ে ফেলতে পারেন প্রশ্নটিকে। বলতে পারেন, আপনি সব সময় পজেটিভ, অতিমাত্রায় বাস্তববাদী। এ ক্ষেত্রে এক-দুটি উদাহরণ দিন।যদি নিয়োগ কর্তা প্রশ্ন করে অতি বাস্তববাদীতা আপনাকে কিভাবে সমস্যার মুখোমুখি করেছিল তা উল্লেখ করুন। সেই সাথে এ সমস্যা থেকে কিভাবে নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন তা-ও বলুন। সোজা-সাপটা সহজ সরল ভাবে উওর দিন।

আমাদের ব্যাপারে কিছু জানার আছে?
বেশীভাগ সময়ই চাকরিদাতারা ইন্টাভিউর শেষ দিকে এ প্রশ্ন করে থাকেন। এর জবাবে এমন কিছু প্রশ্ন করুন যাতে মনে হয় এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে বেশ আগ্রহ আছে আপনার ।তাই নয় শুধু । বরং তাদের সাথে কাজ করতে ব্যাকুলতাও আছে আপনার । এক্ষেত্রে আপনি বুদ্ধিমত্তার সাথে তিন চারটি প্রশ্ন করুন। যেমন-
ক. প্রতিষ্ঠানের আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বা টার্গেট কী?
খ. আমার কাছে প্রথম মাসে কাজের ক্ষেত্রে কী প্রত্যাশা করেন?
গ. কয়জনের হবে আমাদের টিমটি ? অথবা কয়জনের সাথে কাজ করতে হবে আমাকে ?
ঘ. এই প্রতিষ্ঠানের কাছে সফলতার সংজ্ঞা কী?

চাকরির ইন্টারভিউর ক্ষেত্রে সব প্রশ্নের প্রস্তুতি হয়তোবা আগে থেকে নেয়া সম্ভব হবে না। তবে পরবর্তী ইন্টারভিউর জন্যে আগে থেকে অন্ততীই সাধারণ ৫টি প্রশ্নের প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। শুভ কামনা আপনার জন্য।

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *