জেনে নিন আপনার চাকরি না পাওয়ার চার কারণ | NextBDJobs.Com
চাকরি না পাওয়ার চার কারণ

জেনে নিন আপনার চাকরি না পাওয়ার চার কারণ

আপনার পড়া-লেখা শেষ। আপনি চাকরি খুঁজছেন?কিন্তু কিছুতেই চাকুরী পাচ্ছেন না বা পেলেও মানস্মত না। আপনি জানেন না কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্নের সোনার হরিণটির কাছাকাছি গিয়েও বারবার আপনাকে হতে হচ্ছে ব্যর্থতার মুখোমুখি? এমনটা হলেই একদমই হতাশ হবেন না। সব সময় মনে রাখবেন, প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দুর্বলতা আছে, আবার বিশেষ কিছু গুণও আছে সবার মধ্যে। তাই নিজ থেকে এসব দুর্বলতাকেই শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। তাহলেই হাতের নাগালে পাবেন সোনার হরিণের।
চাকরির প্রার্থীরা চারটি সাধারণ দুর্বলতার কারণে দিনে পর দিন প্রতিযোগিতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন। আসুন জেনে নিন সেই সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী এবং তা কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন।

চাকরি না পাওয়ার চার কারণ

 

অভিজ্ঞতার ঘাটতি
যে কোন পেশায় কাজ করার জন্য আবেদন করছেন, হয়তো সে বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা খুব কম। তাই অন্যান্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হয়তো আপনাকে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে আবেদনপত্র ও সাক্ষাৎকারে (ইন্টারভিউ) সময় নিজের অন্যান্য দক্ষতা বিশেষভাবে উল্লেখ করুন। আর এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করুন, যাতে মনে হয়, আপনি যথেষ্ট আন্তরিক নতুন কিছু শেখার ব্যাপারে এবং ওই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আপনি অভিজ্ঞতার ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে নিতে পারবেন। মনে রাখবেন, কাজের অনভিজ্ঞতা আপনার জন্য সুফলও এনে দিতে পারে। আপনি অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ সব সময়ই নিতে পারবেন, কিন্তু নিজ ব্যক্তিত্বের ব্যাপারটা অন্য রকম।

চাকরির মাঝখানে বিরতি
নিজের এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সত্যিই একটু কঠিন। কোন ব্যক্তির চাকরি চলে গেলে বা স্বেচ্ছায় কোনো চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর অন্য নতুন আরেকটি পদে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টাকে বিরতি হিসেবে গণ্য হয়। নিজেকে এই সময় প্রশিক্ষণ বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কোনো কাজে যুক্ত হতে হবে। এতে আপনার বিরতির সময়টা জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) ইতিবাচক বা পজেটিভ দক্ষতা অর্জনের পর্যায় হিসেবে আলাদা ভাবে মূল্যায়ন পাবে। তখন আপনার সিভি পড়ে সাধারণত কেউ জিজ্ঞেস করবে না, ওই বিরতির সময় আপনি বেতন পেয়েছেন কি না? তখন কিন্তু নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার এসব কাজে ব্যস্ত থাকার তাৎপর্য হিসেবে আপনাকে উদ্যমী এবং ক্যারিয়ার-সচেতন হিসেবে বিবেচনা করবে।

দ্রুত ও ক্রমাগত চাকরি বদল
একটা চাকরি হঠাৎ করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি চাকরিপ্রার্থীর ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কারও পছন্দ নয়। বারবার ও দ্রুত চাকরি পরিবর্তন করার ফলে একজন কর্মীর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এসব ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থী প্রতিষ্ঠানের প্রতি যথেষ্ট অঙ্গীকারবদ্ধ নন বলে মনে করা হতে পারে নিয়োগ কর্তার। আপনাকে ক্যারিয়ার গঠন ও দক্ষতা অর্জনের ব্যাপারে যতেষ্ট শক্তিশালী মনোভাব রাখার পাশাপাশি কাজেও তার প্রমাণ দিতে হবে। আপনার চাকরির বাইরে (ফ্রিল্যান্সার হিসেবে) কোন কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সেগুলো সিভিতে গুছিয়ে তুলে ধরুন। আপনি এতে বারবার চাকরি বদল করে থাকলেও ব্যাপারটাকে তুলনামূলক কম নেতিবাচক মনে হবে নিয়োগ কর্তার কাছে।

প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব
আপনি কোনো কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে স্বপ্নের চাকরিটা করার সুযোগ পেয়ে যাওয়ার পরও যদি আপনার মনটা খুঁত খুঁত করে এই মনে করেন যে কাজটার জন্য আপনি যথেষ্ট যোগ্য নন, তাহলে এখুনিই এসব দুর্ভাবনা ও হীনম্মন্যতা ঝেড়ে ফেলুন। নিজের ঘাটতিগুলো আলাদা ভাবে বা উপায়ে পুষিয়ে নিতে হবে। নিজের অতীতে গঠনমূলক বিভিন্ন কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য একজন আদর্শ কর্মী হিসেবে সর্বদা উপস্থাপন করুন। আপনার সিভিতেই বর্ণনা করুন, আগের কাজকর্ম নতুন প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্ক্ষিত পদে চাকরির উপযোগী অভিজ্ঞতা হিসেবে আপনার কাজে লাগবে।

বিজ্ঞপ্তিটি শেয়ার করুন: